মোঃ রাবিউল হোসেন সেজান
উদীয়মান গবেষক | সামাজিক বিজ্ঞান অনুরাগী | একাডেমিক সংগঠক ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ
মোঃ রাবিউল হোসেন সেজান একজন উদীয়মান বাংলাদেশি গবেষক, যার একাডেমিক ও গবেষণাগত কাজ সমাজ, মানুষ এবং সমসাময়িক সমস্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তিনি এমন এক প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন, যারা গবেষণাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের উপায় হিসেবে নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দেখেন। অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য, যুবসমস্যা এবং ডিজিটাল যুগের প্রভাব—এই বিষয়গুলো তার গবেষণার মূল ক্ষেত্র।
একজন গবেষক হিসেবে তার লক্ষ্য শুধু তথ্য বিশ্লেষণ বা পরিসংখ্যান উপস্থাপন নয়; বরং মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা, সংকট ও সম্ভাবনাকে বোঝা এবং সেসবের ভিত্তিতে বাস্তবসম্মত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন জ্ঞান সৃষ্টি করা। তার গবেষণা দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে—গবেষণা হতে হবে সমাজের জন্য, মানুষের জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর।
গ্রামের একটি শান্ত পরিবেশে জন্ম নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন পর্যন্ত তার যাত্রা প্রমাণ করে যে সীমিত সুযোগও কখনো প্রতিভা ও পরিশ্রমকে আটকে রাখতে পারে না। ধারাবাহিক শেখা, আত্মসমালোচনা এবং দায়িত্বশীল চিন্তাই তার গবেষণা পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
শৈশব, পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও চিন্তার বিকাশ
মোঃ রাবিউল হোসেন সেজান জন্মগ্রহণ করেন ২০০২ সালের ১৪ জুন, নওগাঁ জেলার মঙ্গলপুর গ্রামে। একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা সেজান ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মনির্ভরশীলতার গুরুত্ব বুঝতে শেখেন। গ্রামের জীবন তাকে খুব কাছ থেকে মানুষের সংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য এবং সুযোগের সীমাবদ্ধতা দেখার সুযোগ করে দেয়—যা পরবর্তীতে তার গবেষণার বিষয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শৈশব থেকেই তার মধ্যে ছিল প্রবল কৌতূহল। চারপাশের ঘটনা, মানুষের আচরণ, সামাজিক নিয়ম—সবকিছুই তার মনে প্রশ্ন তৈরি করত। তিনি শুধু কী ঘটছে তা জানতে চাইতেন না; জানতে চাইতেন কেন ঘটছে এবং এর পেছনের কাঠামোগত কারণ কী।
এই চিন্তাধারাই ধীরে ধীরে তাকে বিশ্লেষণধর্মী ও গবেষণামুখী মানসিকতার দিকে নিয়ে যায়।
শিক্ষাজীবন ও একাডেমিক ভিত্তি
সেজানের শিক্ষাজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। তিনি এসএসসি সম্পন্ন করেন বিজ্ঞান বিভাগ থেকে, যেখানে গণিত, যুক্তিবিদ্যা ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়। বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিখেছেন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সমস্যাকে কাঠামোগতভাবে বিশ্লেষণ করার পদ্ধতি।
পরবর্তীতে এইচএসসি পর্যায়ে মানবিক বিভাগে অধ্যয়নের মাধ্যমে তিনি সমাজ, ইতিহাস, দর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে শুরু করেন। বিজ্ঞান ও মানবিক—এই দুই ধারার সংমিশ্রণ তার চিন্তাভাবনাকে করে তোলে আরও পরিপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
বর্তমানে তিনি রাজশাহীর Varendra University-এর Department of Economics-এ BSS (Honours) অধ্যয়নরত। অর্থনীতি বিষয়টি তাকে সমাজের আর্থ-সামাজিক কাঠামো, নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রক্রিয়া এবং অসমতার কারণ বিশ্লেষণের সুযোগ করে দেয়। তার কাছে অর্থনীতি কেবল সংখ্যার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনমান, সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
গবেষণা আগ্রহ ও বিষয়ভিত্তিক ফোকাস
মোঃ রাবিউল হোসেন সেজানের গবেষণা আগ্রহ বহুমাত্রিক হলেও এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সমাজ ও মানুষ। তার প্রধান গবেষণা ক্ষেত্রসমূহ হলো—
- মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সমস্যা
- বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জ ও যুবসমস্যা
- দক্ষতার ঘাটতি (Skill Gap) ও কর্মসংস্থান প্রস্তুতি
- সামাজিক উন্নয়ন ও অসমতা
- ডিজিটাল যুগের প্রভাব ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ
- শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
তিনি বিশ্বাস করেন, সামাজিক বিজ্ঞানের গবেষণা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বাস্তব জীবনের সমস্যার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে।
একাডেমিক গবেষণা ও প্রকাশনা
সেজানের গবেষণামূলক কাজ ইতোমধ্যেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা উপস্থাপনা
তিনি সহ-লেখক ও উপস্থাপক হিসেবে “Skill Gap and Employment Readiness Among Varendra University Students” শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন—
Creativity and Innovation in Digital Economy – International Conference 2025,
Romania
এই গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, শ্রমবাজারের চাহিদা এবং শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণা উপস্থাপন তার একাডেমিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
জার্নাল প্রকাশনা
তিনি সহ-লেখক হিসেবে প্রকাশ করেন—
“Mental Health Condition and Its Indicative Factors Among University Students in Rajshahi City”
Varendra International Journal for Interdisciplinary Research (VIJIR)
এই গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা, চাপের কারণ এবং সামাজিক ও একাডেমিক প্রভাবগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
একাডেমিক নেতৃত্ব ও সংগঠনিক ভূমিকা
Varendra University Research Club (VURC)
সেজান VURC-এর Secretary হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ভূমিকায় তিনি—
- গবেষণা কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন
- নবীন গবেষকদের গাইডলাইন প্রদান
- গবেষণা সংস্কৃতি বিকাশে উদ্যোগ
- একাডেমিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ
একই সঙ্গে তিনি Digital Media Coordinator (DMC) হিসেবেও কাজ করেন, যেখানে তার সৃজনশীল দক্ষতা ক্লাবের ভিজ্যুয়াল পরিচয়কে নতুন রূপ দেয়।
সৃজনশীল দক্ষতা ও ডিজিটাল গবেষণা যোগাযোগ
সেজান চার বছরের বেশি সময় ধরে—
- Video Editing
- Animation & VFX
- Adobe After Effects
- Adobe Premiere Pro
- Digital Content Production
এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করছেন। তিনি গবেষণা উপস্থাপন, পোস্টার ডিজাইন এবং একাডেমিক কনটেন্টকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রভাবশালী করে তুলতে তার এই দক্ষতাগুলো ব্যবহার করেন।
তিনি CBA IT, Freelance Institute, Ordinary IT, TEXLAB IT-এ কাজ করেছেন এবং Fiverr-এ একজন পেশাদার ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি
- UIHP IC-6 Competition – ২য় স্থান (৳৫০,০০০ পুরস্কার)
- VUIRF-2025 Poster Presentation – ৩য় স্থান
এই অর্জনগুলো তার সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও একাডেমিক যোগাযোগ দক্ষতার স্বীকৃতি।
ব্যক্তিগত দর্শন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সেজান বিশ্বাস করেন—
“গবেষণা তখনই সফল, যখন তা সমাজের কাজে লাগে।”
ভবিষ্যতে তিনি চান—
- উচ্চতর গবেষণায় যুক্ত হতে
- নীতি-ভিত্তিক গবেষণা করতে
- মানসিক স্বাস্থ্য ও যুব উন্নয়নে কাজ করতে
- আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তুলতে
ডিজিটাল ও একাডেমিক উপস্থিতি
- Instagram: @rabiulsejan
- LinkedIn: MD RABIUL HOSEN SEJAN
- ResearchGate: Academic Profile
- Fiverr: Professional Video Editor
উপসংহার
মোঃ রাবিউল হোসেন সেজানের গবেষণা যাত্রা একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়—
যখন জ্ঞান, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা একসাথে কাজ করে, তখন গবেষণা কেবল একাডেমিক কাজ নয়; বরং সামাজিক পরিবর্তনের শক্তিতে পরিণত হয়।
