অষ্টম শ্রেণী সমাজ প্রথম অধ্যায় সহজ নোট কুইজ ও PDF ২০২৬
অষ্টম শ্রেণী – বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
প্রথম অধ্যায়: ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের প্রথম অধ্যায়ের নাম হলো “ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম” এ অধ্যায়টি আমাদের ইতিহাসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়ে আমরা জানতে পারি কীভাবে ইংরেজরা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে এসে ধীরে ধীরে বাংলাকে দখল করে নেয় এবং দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বাংলার উপর তারা ঔপনিবেশিক শাসনকার্য চালায়।
Philosopher King নেতৃত্বের নৈতিকতা বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস সামাজিক স্তর বিন্যাস
এই সময় বাংলার অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের মতো মর্মান্তিক ঘটনা এবং মানুষের উপর শোষণ–নির্যাতনের ইতিহাস এই অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ অংশ। একই সঙ্গে আমরা জানতে পারি, কীভাবে বাঙালি ধীরে ধীরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
এই অধ্যায়টি শুধু পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং আমাদের অতীতকে বুঝতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে সাহায্য করে। তাই বিষয়টি মনোযোগ দিয়ে পড়লে ইতিহাসের অনেক অজানা দিক সহজেই বোঝা যায়।
নিজেকে যাচাই করুন
অষ্টম শ্রেণী ইতিহাস
‘প্রথম অধ্যায়: ঔপনিবেশিক যুগ’ MCQ
মোট প্রশ্ন: ৩০ | সময়: ১০ মিনিট
| অষ্টম শ্রেণী সমাজ প্রথম অধ্যায় গাইডের PDF ২০২৬ | Click Here |
Source:
1️⃣ NCTB Class 8 Bangladesh & Global Studies Textbook PDF
(অষ্টম শ্রেণী বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সরকারী বই)
2️⃣ Wikipedia – Bangladesh (বাংলাদেশ সম্পর্কিত তথ্য)
বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে মূল বইয়ের PDF ডাউনলোড করে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
বোর্ড বই ভিত্তিক প্রশ্ন ও উত্তর
১। বাংলা স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
উত্তর: ক. সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
২। শাসকের মৃত্যুর পর একাধিক বছরকে মাঝরাজাদের যুগ বলা হয়। কারণ তখন— নিচের কোনটি সঠিক?
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii
৩। মাহিনের দাদুর বর্ণিত ঘটনায় কোন শাসনের চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে?
উত্তর: গ. দ্বৈতশাসন
৪। বর্ণিত ঘটনার ফলে— নিচের কোনটি সঠিক?
উত্তর: ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন কে?
ভারতে প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হন লর্ড ক্যানিং। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৮৫৮ সালে সরাসরি ভারতের শাসনভার গ্রহণ করে। তখন ভারতের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয় এবং গভর্নর জেনারেলের পরিবর্তে “ভাইসরয়” পদ চালু করা হয়। লর্ড ক্যানিংই ছিলেন ভারতের প্রথম ভাইসরয়। তার শাসনামল থেকেই ভারতে ব্রিটিশ রাজশাসনের নতুন যুগের সূচনা হয়।
খ. বাংলা ১১৭৬ সালে দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় কেন?
বাংলা ১১৭৬ সালে (১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে) ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়, যা ইতিহাসে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষের প্রধান কারণ ছিল অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি। কৃষকরা ঠিকমতো ধান উৎপাদন করতে পারেনি। কিন্তু শুধু প্রাকৃতিক কারণই নয়, ইংরেজদের কঠোর রাজস্বনীতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে। ফসল নষ্ট হলেও কৃষকদের কাছ থেকে আগের মতোই কর আদায় করা হয়। এছাড়া খাদ্য মজুতদারি ও অব্যবস্থাপনার কারণেও খাদ্যসংকট চরমে পৌঁছে যায়। ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা যায়।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতি মতে উনিশ শতাব্দীতে বাংলার কিসের উত্থান ঘটেছিল? ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শিক্ষার প্রসার ঘটেছে, বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং নারীশিক্ষার বিষয়ে মানুষ সচেতন হয়েছে। এসব পরিবর্তন উনিশ শতাব্দীতে বাংলায় নবজাগরণের উত্থানকে নির্দেশ করে।
এই সময়ে সমাজে নতুন চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে। মানুষ কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস থেকে বের হয়ে যুক্তিবাদী ও আধুনিক শিক্ষায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। সমাজসংস্কার আন্দোলন, নারীশিক্ষা বিস্তার এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ছিল এই নবজাগরণের গুরুত্বপূর্ণ দিক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উনিশ শতকের বাংলার নবজাগরণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ. রাহাতার মতো শিক্ষিত নারীর জন্য এদেশে নারী শিক্ষার পথ সুগম হয়েছে—উদ্দীপকের যথার্থতা নিরূপণ করো।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে নারীশিক্ষার প্রসারের ফলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে নারীরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকলেও ধীরে ধীরে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও সচেতনতার কারণে নারীরা শিক্ষার সুযোগ পেতে শুরু করে।
রাহাতার মতো শিক্ষিত নারী সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং অন্য নারীদের শিক্ষিত হতে অনুপ্রাণিত করে। বর্তমানে নারীরা শিক্ষা গ্রহণ করে বিভিন্ন পেশায় সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে। তাই বলা যায়, নারীশিক্ষার পথ সুগম হওয়ায় রাহাতার মতো শিক্ষিত নারী গড়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। উদ্দীপকের বক্তব্য যথার্থ।
সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন
১। ইংরেজ শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয় কেন?
ইংরেজরা ভারতকে নিজেদের উপনিবেশে পরিণত করে শাসন করত। তারা দেশের সম্পদ ও অর্থ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করত। প্রশাসনিক ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখে ভারতীয়দের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক লাভ ও শোষণ। তাই ইংরেজ শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়।
২। দ্বৈতশাসন প্রতিষ্ঠার দুটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
দ্বৈতশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান কারণ ছিল বাংলার রাজস্ব আদায়ের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নবাবের উপর চাপিয়ে দেওয়া। ইংরেজরা রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে চেয়েছিল। অন্যদিকে প্রশাসনিক দায়িত্ব নবাবের উপর থাকায় যেকোনো সমস্যার দায়ভার নবাবের উপর পড়ত। এভাবে ইংরেজরা ক্ষমতা ভোগ করত কিন্তু দায়িত্ব এড়িয়ে যেত।
৩। দ্বৈতশাসন ব্যবস্থার ফলে নবাব কেন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন?
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায় ও সামরিক ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। নবাবের হাতে কেবল নামমাত্র প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে। অর্থ ও সামরিক শক্তি না থাকায় নবাব কার্যত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। ফলে তিনি শুধু নামমাত্র শাসকে পরিণত হন এবং বাস্তবে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েন।
৪। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের কারণ ব্যাখ্যা করো।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রধান কারণ ছিল অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ফসলহানি। পাশাপাশি ইংরেজদের কঠোর করনীতি, খাদ্য মজুতদারি এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাও দুর্ভিক্ষকে তীব্র করে তোলে। কৃষকদের দুরবস্থা চরমে পৌঁছে যায় এবং খাদ্যের অভাবে অসংখ্য মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এটি বাংলার ইতিহাসের একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১ম অধ্যায়ে কী বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
এই অধ্যায়ে বাংলাদেশের পরিচিতি, ভূগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কোথায় অবস্থিত?
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। এর উত্তরে ভারত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মিয়ানমার অবস্থিত।
বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান উপাদান কী?
ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ঐতিহ্য বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান উপাদান।
কেন বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?
এটি শিক্ষার্থীদের দেশ ও বিশ্বের সম্পর্কে সচেতন করে এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।
বাংলাদেশের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য কী?
বাংলাদেশের সংস্কৃতি বহুমাত্রিক; ভাষা, লোকসংগীত, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও উৎসব এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উপসংহার
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ১ম অধ্যায়ে বাংলাদেশের ভূগোল, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের মৌলিক ধারণা তুলে ধরা হয়েছে। এই অধ্যায়টি শিক্ষার্থীদের দেশ সম্পর্কে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই অধ্যায়ের মূল বিষয়গুলো ভালোভাবে বুঝতে সরকারী বই অনুসরণ করে নিয়মিত অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

আমাদের পোস্টটি ভালো লাগলে মন্তব্য করুন এবং বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
Table of Contents
আরো পড়ুন: যে সকল রোগের উপকার করে আমলকি
