অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের সম্পূর্ণ ধাপে ধাপে নিয়ম (২০২৬ আপডেট গাইড)
জন্ম নিবন্ধন সনদ বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দলিলগুলোর একটি। জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্কুলে ভর্তি, চাকরির আবেদন, বিয়ে নিবন্ধন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই জন্ম নিবন্ধন অপরিহার্য।
How to Correct NID at Home Tech News BD YouTube Algorithm 2025 YouTube Home Feed Update YouTube SEO Tips দার্শনিক রাজার বৈশিষ্ট্য নেতৃত্বের নৈতিকতা প্লেটো দর্শন যে সকল রোগের উপকার করে আমলকি – আমলকীর স্বাস্থ্য উপকারিতা হোম ফিড নিয়ন্ত্রণ
কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের অনেকের জন্ম নিবন্ধনে নাম, জন্ম তারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা বা অন্যান্য তথ্য ভুল রয়েছে। আগে এসব ভুল ঠিক করতে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। এখন সুখবর হলো—অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়, তাও ঘরে বসেই।
এই আর্টিকেলে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো—
- অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কীভাবে করবেন
- কী কী তথ্য সংশোধন করা যায়
- কোন কাগজপত্র লাগবে
- আবেদন করার সময় কোন ভুলগুলো এড়ানো জরুরি
- আবেদন বাতিল হলে কী করবেন
সবকিছু সহজ ভাষায়, ধাপে ধাপে।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কী?
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন বলতে বোঝায়—জন্ম নিবন্ধন সনদে থাকা কোনো ভুল বা অসঙ্গত তথ্য আইনগতভাবে পরিবর্তন বা ঠিক করা।
যেমন:
- নামের বানান ভুল
- জন্ম তারিখ ভুল
- পিতা বা মাতার নাম ভুল
- স্থায়ী ঠিকানা ভুল
- লিঙ্গ সংক্রান্ত ভুল
কোন কোন তথ্য অনলাইনে সংশোধন করা যায়?
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নিম্নলিখিত তথ্যগুলো অনলাইনে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছে:
- ✔ নাম (নিজের, পিতা, মাতা)
- ✔ জন্ম তারিখ
- ✔ জন্মস্থান
- ✔ ঠিকানা
- ✔ লিঙ্গ
- ✔ জাতীয়তা (বিশেষ ক্ষেত্রে)

তবে মনে রাখবেন—একবারে সব তথ্য পরিবর্তন করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে। বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সংশোধনের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত যা লাগে:
১. জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
(পুরোনো জন্ম নিবন্ধন)
২. জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)
- আবেদনকারীর
- অথবা পিতা/মাতার
৩. শিক্ষাগত সনদ
- SSC / JSC / PSC সার্টিফিকেট (যদি জন্ম তারিখ সংশোধন হয়)
৪. পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন বা NID
বিশেষ করে নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে
৫. অন্যান্য প্রমাণপত্র
- হাসপাতালের জন্ম সনদ
- টিকা কার্ড
- স্কুলের রেজিস্ট্রেশন কপি
👉 সব কাগজপত্র স্ক্যান করে বা পরিষ্কার ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ধাপে ধাপে নিয়ম
এখন আসি মূল অংশে—ধাপে ধাপে আবেদন করার প্রক্রিয়ায়।

ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের জন্য নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
ওয়েবসাইটে ঢোকার পর “জন্ম নিবন্ধন সংশোধন” অপশনটি খুঁজে নিন।
ধাপ ২: জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিন
এখন আপনাকে দিতে হবে:
- ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর
- জন্ম তারিখ (বর্তমানে যেটা সনদে আছে)
সঠিকভাবে তথ্য দিলে আপনার নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য স্ক্রিনে দেখাবে।
ধাপ ৩: সংশোধনের ধরন নির্বাচন করুন
এখানে আপনি নির্বাচন করবেন—
- কোন তথ্য সংশোধন করতে চান
- কেন সংশোধন করতে চান (কারণ উল্লেখ করতে হবে)
যেমন:
“নামের বানান ভুল হয়েছে”
“জন্ম তারিখ ভুল এন্ট্রি হয়েছে”
ধাপ ৪: সঠিক তথ্য লিখুন
এই ধাপে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।
- যেই তথ্য সংশোধন করতে চান, সেটার সঠিক বানান ও ফরম্যাট লিখুন
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে মিল রেখে লিখুন
একটি ছোট বানান ভুলেও আবেদন বাতিল হতে পারে।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করুন
এখন নির্দিষ্ট জায়গায়—
- NID
- সার্টিফিকেট
- জন্ম সনদ
ইত্যাদি স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
📌 টিপস:
- ফাইল সাইজ বেশি না হয়
- ছবি পরিষ্কার ও ঝাপসা না হয়
- JPG বা PDF ফরম্যাট ব্যবহার করুন
ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন।
সফলভাবে সাবমিট হলে—
- একটি Application ID বা ট্র্যাকিং নম্বর পাবেন
- এটি অবশ্যই সংরক্ষণ করবেন
আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হয়?
আবেদন জমা দেওয়ার পর এটি যাচাইয়ের জন্য চলে যায়—
- ইউনিয়ন পরিষদ
- পৌরসভা
- সিটি কর্পোরেশন
(যেখান থেকে জন্ম নিবন্ধন ইস্যু হয়েছিল)
সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা—
- আপনার কাগজপত্র যাচাই করবেন
- প্রয়োজনে সরাসরি উপস্থিত হতে বলতে পারেন
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন হতে কত সময় লাগে?
সাধারণত সময় লাগে:
- ⏳ ৭–১৫ কার্যদিবস
কিছু ক্ষেত্রে: - ⏳ ১ মাস পর্যন্তও লাগতে পারে
সবকিছু নির্ভর করে—
- সংশোধনের ধরন
- কাগজপত্রের সঠিকতা
- স্থানীয় অফিসের কাজের চাপের ওপর
আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
অনেক সময় আবেদন Reject বা বাতিল হতে পারে।
কারণ হতে পারে:
- ভুল কাগজপত্র
- অস্পষ্ট স্ক্যান কপি
- তথ্যের অসামঞ্জস্য
করণীয়:
- রিজেকশনের কারণ ভালোভাবে পড়ুন
- প্রয়োজন হলে নতুন করে আবেদন করুন
- ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি যোগাযোগ করুন
ভয় পাওয়ার কিছু নেই—সঠিক ডকুমেন্ট থাকলে সংশোধন হবেই।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু সতর্কতা
- ❌ ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করবেন না
- ❌ ইচ্ছেমতো জন্ম তারিখ পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন না
- ✅ সব তথ্য সত্য ও প্রমাণযোগ্য রাখুন
- ✅ একই তথ্য বারবার সংশোধন না করাই ভালো
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ—
- NID করতে সমস্যা হয়
- পাসপোর্ট আটকে যায়
- শিক্ষা ও চাকরিতে জটিলতা তৈরি হয়
একটি ছোট ভুল ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব জন্ম নিবন্ধনের ভুলগুলো ঠিক করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

উপসংহার
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ব্যবস্থা বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবার একটি বড় অগ্রগতি। এখন আর দালাল বা অযথা হয়রানির শিকার হতে হয় না। সঠিক নিয়ম মেনে আবেদন করলে খুব সহজেই জন্ম নিবন্ধনের ভুল সংশোধন করা সম্ভব।
আশা করি এই গাইডটি পড়ে আপনি নিজেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন—কারো সাহায্য ছাড়াই।
FAQs (প্রশ্ন ও উত্তর)
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে কি টাকা লাগে?
সাধারণত না, তবে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ফি থাকতে পারে।
একাধিক তথ্য একসাথে সংশোধন করা যায়?
হ্যাঁ, তবে বড় পরিবর্তনে অতিরিক্ত যাচাই হয়।
মোবাইল দিয়ে আবেদন করা যাবে?
হ্যাঁ, স্মার্টফোন দিয়েও করা যায়।
আবেদন ট্র্যাক করবো কীভাবে?
আবেদন নম্বর দিয়ে ওয়েবসাইটে ট্র্যাক করা যায়।
Table of Contents
এমন আরও সহজ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি গাইড পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন এবং পোস্টটি প্রয়োজন হলে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত অফিসিয়াল নির্দেশিকা এবং সংশ্লিষ্ট অনলাইন সেবা পোর্টাল।
