ডেঙ্গু: ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ – 15টি জরুরি তথ্য (২০২৫ বেস্ট গাইড)
ভূমিকা (Introduction)
বাংলাদেশে বর্ষাকাল এলেই যে রোগটি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক সৃষ্টি করে সেটি হলো ডেঙ্গু। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, আর অনেকেই দেরিতে শনাক্ত করার কারণে জটিল অবস্থায় পড়ে যায়। ডেঙ্গু শুধু একটি সাধারণ জ্বর নয়—এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে গুরুতর রূপ নিতে পারে। তাই ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ আগে থেকেই জানা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং কীভাবে যত্ন নিতে হয় তা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। জলবায়ু পরিবর্তন, জনবহুল নগর পরিবেশ, পানি জমে থাকা এবং মশার বংশবিস্তার—সব মিলিয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ঠিক এই কারণেই এই ব্লগটি তৈরি করা হয়েছে সম্পূর্ণ আপডেটেড, তথ্যভিত্তিক এবং সহজবোধ্য ভাষায়, যাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসচেতন সকলেই ডেঙ্গু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন।
এই গাইডে আপনি জানতে পারবেন—ডেঙ্গু কী, কীভাবে ছড়ায়, ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক ও গুরুতর লক্ষণ, ডেঙ্গু হলে করণীয় কী, কোন খাবার খেতে হবে, কতদিন জ্বর থাকতে পারে, শিশুদের ডেঙ্গু কেমন হয় এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এছাড়াও প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় টিপস, ভুল ধারণা ভাঙা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ব্লগের লক্ষ্য একটাই—ডেঙ্গু সম্পর্কে আপনার সচেতনতা বাড়ানো এবং আপনাকে নিরাপদ রাখা।
Table of Contents
ডেঙ্গু কী?
ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসজনিত জ্বর যা Aedes aegypti ও Aedes albopictus প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাংলাদেশে বর্ষাকাল ও তার পরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন আছে – DEN-1, DEN-2, DEN-3, DEN-4। একটি ধরনে আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য ধরনে আক্রান্ত হলে রোগটি অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়?
- ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তে ভাইরাস থাকলে সেই রক্ত চুষে নেয় মশা।
- পরে একই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
- ডেঙ্গু মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না, শুধু মশার মাধ্যমেই ছড়ায়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
ডেঙ্গু রোগ সাধারণত ৩টি ধাপে দেখা দেয়—ফেব্রাইল, ক্রিটিক্যাল ও রিকভারি স্টেজ।
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সাধারণত ৪–৬ দিন পরে দেখা দেয়।
প্রাথমিক ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
- হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর (১০২–১০৪°F)
- তীব্র মাথাব্যথা
- চোখের পিছনে ব্যথা
- শরীর ব্যথা ও জয়েন্টে ব্যথা
- শরীরে লাল দাগ (rash)
- প্রচণ্ড দুর্বলতা
- বমি বা বমিভাব
- দাঁত-মাড়ি বা নাক থেকে হালকা রক্ত পড়া

এই পর্যায়েই সঠিক চিকিৎসা সবচেয়ে কার্যকর।
গুরুতর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ (Severe Dengue)
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে:
- পেট ফোলা বা পেটে পানি জমা
- শ্বাসকষ্ট
- রক্তচাপ কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
- বমিতে বা মলে রক্ত
- অসহ্য পেটব্যথা
- শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
সতর্কতা: গুরুতর ডেঙ্গু অনেক সময় প্রাণঘাতী হতে পারে।
ডেঙ্গু রোগের ধাপ
১. Febrile Stage (দিন ১–৩)
জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, র্যাশ।
২. Critical Stage (দিন ৪–৬)
রক্ত প্লাজমা লিক হতে পারে — এই সময়টাই সবচেয়ে বিপজ্জনক।
৩. Recovery Stage (দিন ৭–১০)
ধীরে ধীরে জ্বর কমে যায়, খাওয়ার রুচি ফিরে আসে।
ডেঙ্গু হলে করণীয়
✔ পর্যাপ্ত পানি পান
ORS, পানি, স্যুপ, ফলের রস।
✔ দিনে অন্তত ২ বার CBC টেস্ট
কারণ প্লাটিলেট দ্রুত কমে যেতে পারে।
✔ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া
নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না।
✔ বিশ্রামে থাকা
শারীরিক ক্লান্তি কমাতে বিছানায় বিশ্রাম প্রয়োজন।
ডেঙ্গু চিকিৎসা – কী করবেন, কী করবেন না
✔ যা করতে হবে
- নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা
- তরল খাবার খাওয়া
- ডাক্তারের দেওয়া প্যারাসিটামল খাওয়া
- প্রতিদিন প্লাটিলেট এবং হেমাটোক্রিট পরীক্ষা
❌ যা করবেন না
- কোনোভাবেই Brufen/NSAIDs (ইবুপ্রোফেন) খাওয়া যাবে না
- অ্যান্টিবায়োটিক
- সেপ কফি, এনার্জি ড্রিংক
- শরীরে ড্রিপ নেওয়া (ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া)
ডেঙ্গু হলে কী খাবেন
✔ রোগীকে যেসব খাবার দিতে পারেন

- ডাবের পানি
- স্যুপ
- পেঁপের পাতার রস (ডাক্তারের পরামর্শে)
- কমলার রস
- ফল (পেঁপে, কলা, আপেল)
- ওটস, সেদ্ধ ডিম
- ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ খাবার
❌ যেসব খাবার এড়াতে হবে
- বেশি ভাজাভুজি
- কোল্ড ড্রিংক
- ক্যাফেইন
- গরুর মাংস
ডেঙ্গুর প্রতিরোধে করণীয়
✔ মশার বংশবিস্তার রোধ করুন
- পানি জমে থাকা ঠিকানা চেক করুন
- বাড়ির ড্রেন পরিষ্কার রাখুন
- ফুলের টবের নিচে পানি না রাখুন
✔ নিজেকে মশা থেকে বাঁচান
- মশারি ব্যবহার করুন
- শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক
- মশা প্রতিরোধক (মশার স্প্রে/লোশন)
- উদাহরণ: “মশা রেপেলেন্ট লোশন” – [Affiliate Link]

✔ ঘরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন
- জানালায় নেট দিন
- ঘুমানোর আগে ঘরে মশা স্প্রে করুন
শিশুদের ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
- খাবার না খেতে চাওয়া
- অতিরিক্ত ঘুম
- মাথা ঘোরা
- র্যাশ
- দ্রুত শরীর শুকিয়ে যাওয়া
- বমি
শিশুদের ক্ষেত্রে সামান্য লক্ষণেও হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু জ্বর কতদিন থাকে?
সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর ৭ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়।
গুরুতর ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সময় আরও বেশি লাগতে পারে।
ডেঙ্গু সেরে ওঠার পর করণীয়
- প্রচুর পানি পান
- আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম
- ২–৩ সপ্তাহ ভারী কাজ না করা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা
ডেঙ্গু সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
❌ “ডেঙ্গু মশা থেকে নয়, ভাইরাস থেকে ছড়ায়“
ডেঙ্গু শুধুমাত্র এডিস মশা দ্বারা ছড়ায়।
❌ “ডেঙ্গুর ওষুধ আছে“
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই — শুধু সহায়ক চিকিৎসা আছে।
- Business Card 2025
- Business Card Design
- Islamic motivational stories
- Islamic stories
- Job Circular
- November 2025
- Tech News BD
- Visiting Card Template
- YouTube Algorithm 2025
- YouTube Home Feed Update
- YouTube SEO Tips
- ইসলামিক গল্প
- ইসলামিক মোটিভেশন
- ঈমান বৃদ্ধি
- গর্ভাবস্থায় ঠান্ডা
- ঠান্ডা লাগলে করণীয়
- ডেঙ্গু
- ডেঙ্গু জ্বর
- ডেঙ্গু প্রতিরোধ
- ডেঙ্গু লক্ষণ
- তাওয়াক্কু
- ধৈর্য ও সফলতা
- বিজনেস কার্ড ডিজাইন
- ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন
- সরকারি ও বেসরকারি
- স্বাস্থ্য টিপস
- হেলথ কেয়ার
- হোম ফিড নিয়ন্ত্রণ
1. ডেঙ্গু হলে কি সবসময় হাসপাতালে যেতে হয়?
সবসময় হাসপাতালে যেতে হবে—এমন নয়। ডেঙ্গুর অনেক রোগীই প্রাথমিক পর্যায়ে (ফেব্রাইল স্টেজ) ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিতে পারেন।
তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকের ওপর:
রোগীর জ্বরের মাত্রা
বমি হওয়া বা না হওয়া
তরল খাবার গ্রহণ করতে পারছে কি না
রক্তপাত হচ্ছে কি না
প্লাটিলেট কাউন্ট দ্রুত কমছে কি না
হেমাটোক্রিট (HCT) বাড়ছে কি না
যদি রোগী স্বাভাবিকভাবে পানি পান করতে পারেন, অতি দুর্বল না হন এবং কোনো রকম রক্তক্ষরণের লক্ষণ না থাকে—তাহলে সাধারণত বাড়িতে চিকিৎসা নিরাপদ।
তবে নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে অবশ্যই হাসপাতালে যেতে হবে:
বমি বারবার হওয়া
পেটে তীব্র ব্যথা
রক্ত দেখা (বমিতে/মলে/নাকে/মাড়িতে)
শ্বাসকষ্ট
মাথা ঘোরা
শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
প্লাটিলেট ৫০,০০০-এর নিচে নেমে যাওয়া
শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে ডেঙ্গু হওয়ার ইতিহাস থাকলে হাসপাতালে যাওয়া আরও জরুরি।
2. ডেঙ্গু হলে কি পানি বেশি পান করতে হবে?
হ্যাঁ, অবশ্যই। ডেঙ্গুর সময় শরীরে পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি থাকে, কারণ জ্বর ও বমির কারণে পানি দ্রুত কমে যায়। আর শরীরের প্রয়োজনীয় তরল কমে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়, যা ডেঙ্গুর সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা প্লাজমা লিকেজ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তাই প্রচুর পানি বা তরল খাবার পান করা একেবারে অপরিহার্য।
দিনে যেসব তরল খাবার নিয়মিত পান করা উচিত:
ORS (দৈনিক ২–৪ বার)
পানি
ডাবের পানি
স্যুপ
লেবুর রস
ফলের রস (বিনা চিনি)
স্যালাইন জাতীয় তরল
মনে রাখবেন:
খুব অল্প পরিমাণে বারবার পানি পান করুন
বমি হলে ORS খুব ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন
কফি, এনার্জি ড্রিংক, কোলা জাতীয় কোনো পানীয় খাবেন না
দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার তরল পান করা জরুরি, তবে কোনো রোগীর বমির মাত্রা অনুযায়ী ডাক্তার পরামর্শ দেবেন কতটুকু পান করতে হবে।
3. কোন দিনে ডেঙ্গু সবচেয়ে বিপজ্জনক?
ডেঙ্গু সাধারণত ৩টি পর্যায়ে বিভক্ত, আর এর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হলো ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠ দিন, যাকে Critical Stage বলা হয়।
কেন এই সময়টি বিপজ্জনক
এই সময়ে জ্বর হঠাৎ কমে আসতে পারে, কিন্তু এটি রোগ ভালো হওয়ার সংকেত নয়।
হার্ট, লিভার, কিডনির ওপর চাপ বাড়তে পারে।
রক্তের প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে।
শরীরের রক্তনালীগুলো থেকে প্লাজমা লিক হয়ে পেটে বা ফুসফুসে পানি জমতে পারে।
রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যাকে শক বলে।
এই মুহূর্তে রোগী অনেক সময় স্বাভাবিক মনে হলেও হঠাৎ করে অবস্থা খারাপ হতে পারে—তাই রোগীকে সবচেয়ে বেশি নজরে রাখতে হয় এই সময়।
এই পর্যায়ে যেসব লক্ষণ বিপদের ইঙ্গিত দেয়:
তীব্র পেটব্যথা
বমি ও রক্তসহ বমি
শ্বাসকষ্ট
দাঁত-মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত
শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা
প্রস্রাব কমে যাওয়া
এগুলো দেখা দিলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
4. ডেঙ্গুর পরে কখন স্বাভাবিক খাবার খাওয়া যাবে?
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যার পরে শরীর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। জ্বর কমে যাওয়ার পরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাবারে ফিরতে হয়। সাধারণত জ্বর কমার ২–৩ দিন পরে রোগী স্বাভাবিক খাবার খেতে পারেন, কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে সময় লাগে ২–৩ সপ্তাহ।
ডেঙ্গু সেরে ওঠার পরে শুরুতে যেসব খাবার দেওয়া যেতে পারে:
স্যুপ
খিচুড়ি
ওটস
ভাত-ডাল
ফলমূল
সেদ্ধ ডিম
ভিটামিন–সি সমৃদ্ধ খাবার
পরে ধীরে ধীরে যোগ করা যাবে:
মাছ
মুরগির মাংস
সবজি
রুটি
ভাত
যেগুলো এড়াতে হবে:
ভাজা–ভুজি
খুব তেলযুক্ত খাবার
কোল্ড ড্রিংক
অতিরিক্ত মসলা
কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত খাবার
ডেঙ্গু-পরবর্তী সময়ে ক্লান্তি থাকা খুবই স্বাভাবিক। তাই রোগীর উচিত—
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান
কম পরিমাণে কিন্তু বারবার খাবার খাওয়া
২–৩ সপ্তাহ বিশ্রাম
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (CBC) করা
এভাবে ধীরে ধীরে শরীর তার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
উপসংহার
ডেঙ্গু এখন আর শুধু একটি মৌসুমি রোগ নয়—এটি বাংলাদেশে প্রতি বছরই ভয়ঙ্কর আকারে দেখা দেওয়া একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। আর তাই ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ এবং ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন থাকা, ঝুঁকির সময় মশা প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গু এমন একটি রোগ, যার চিকিৎসা যত আগেভাগে শুরু করা যায়, রোগী তত দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।
ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ যেমন জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরে লাল দাগ—এসব কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে ৪ থেকে ৬ দিন, যাকে “ক্রিটিক্যাল স্টেজ” বলা হয়, এই সময়ে রোগীর অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই প্রতিদিন রক্ত পরীক্ষা, যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই এই রোগ থেকে নিরাপদ থাকার মূল উপায়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেক সহজ—মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা, চারপাশ পরিষ্কার রাখা, শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক ব্যবহার করা এবং বাসাবাড়িতে মশারি বা রেপেলেন্ট ব্যবহার করা। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজ একসাথে উদ্যোগ নিলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সবশেষে মনে রাখবেন—ডেঙ্গু মোকাবিলা করা কঠিন নয়, যদি আমরা সচেতন থাকি, লক্ষণগুলো সঠিক সময়ে শনাক্ত করি এবং যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করি। সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং দ্রুত চিকিৎসাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকরী পথ।
আপনি, আপনার পরিবার এবং আপনার চারপাশের সবাই যেন ডেঙ্গুমুক্ত ও নিরাপদ থাকে—এই কামনা করি।
আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন
